শীর্ষ সংবাদ

স্পেন ২ : ০, ফ্রান্স ফ্রান্সের দম্ভচূর্ণ, ফাইনালে স্পেন

ম্যাচটি নিয়ে আলোচনা ছিল অনেক। পরিসংখ্যান, ইতিহাস আর বর্তমান ফর্মে এগিয়ে থাকা ফ্রান্সকেই ধরে নেয়া হচ্ছিল ফাইনালের যোগ্য। তবে দিন শেষে গোলের খেলা ফুটবলে সেই গোলটাই করতে পারেনি কাতার বিশ্বকাপের রানার্সআপরা। আলোচিত কিলিয়ান এমবাপ্পে-উসমান দেম্বেলে-মাইকেল ওলিসে ত্রয়ীও গড়তে পারলেন না তেমন কোনো পার্থক্য। তাদের স্বপ্ন ভেঙ্গে শিরোপার মঞ্চে স্পেন। বাংলাদেশ সময় গতকাল শেষরাতে যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে ফরাসিদের দম্ভ চূর করে ২-০ গোলে গোলে হারিয়ে ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে লুইস দে লা ফন্তের শিষ্যরা। ২০১০ বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হয়ে পেনাল্টি থেকে গোল করে এগিয়ে নেন মিকেল ওইয়ারসাবাল। পরে দারুন এক গোলে ফ্রান্সের আরেকটি বিশ্বকাপ ফাইনালের স্বপ্নের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেন ডিফেন্ডার পেদ্রো পোরো। শেষ চার থেকেই বিদায় নিল দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। অসাধারণ পারফরম্যান্সে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে পা রাখল লা রোহারা।

Geographic Reference

 

 

এবারের উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে একরকম অপ্রতিরোধ্য ফুটবল খেলেই সেমিফাইনালে ওঠে এসেছিল ফ্রান্স। শেষ চারে স্পেনের বিপক্ষে অনেকের ফেবারিটও ছিল দিদিয়ের দেশমের দলটি। কিন্তু টুর্নামেন্টজুড়ে অবিশ্বাস্য ফুটবল খেলা ফ্রান্সকে সেমিফাইনালে এদিন খুঁজেই পাওয়া গেল না। ম্যাচে সব মিলিয়ে একটির বেশি শট লক্ষ্যেও রাখতে পারেনি তারা। বিপরীতে এদিন স্পেন ছিল গতিময় ও আগ্রাসী। শুরু থেকে ফ্রান্সের ওপর চাপ তৈরি করেছে তারা। জমাট রক্ষণ, গতিময় মিডফিল্ড ও আগ্রাসী আক্রমণ মিলে অবিশ্বাস্য ফুটবল উপহার দিয়েছে তারা। যার ফল তারা শেষ পর্যন্ত পেয়েছে ফাইনাল নিশ্চিত করে। আগামী রোববার রাতের ফাইনালে স্পেনের প্রতিপক্ষ আজ রাতে মাঠে গড়াতে যাওয়া আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড ম্যাচের জয়ী দল।
এদিন অ্যারিংটনের এটিএন্ডটি স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই ছন্নছাড়া ফুটবল উপহার দেয় ফ্রান্স। যার খেসারতও দিতে হয় তাদের। ম্যাচের ২০ মিনিটের মাথায় ফ্রান্সের বক্সের ভেতর লামিনে ইয়ামাল ফাউলের শিকার হওয়ায় পেনাল্টি পায় স্পেন। লুকাস দিনিয়ে বুঝতেই পারেননি, তার ঠিক পেছনেই ছিলেন বার্সা তরুন তুর্কি। বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে তিনি ইয়ামালের পায়ে জোরে আঘাত করেন। স্পষ্ট পেনাল্টি পায় স্পেন। সেখান থেকে দারুণ এক বুদ্ধিদীপ্ত শটে ফ্রান্সের গোলরক্ষক মাইক মাইনিয়ঁকে পরাস্ত করেন কিন্তু ওইয়ারসাবাল। যদিও বলের লক্ষ্যেই ঝাঁপিয়েছিলেন তিনি তবে রিয়াল সোসিয়েদাদ তারকার জোরালো শট মাইনিয়ঁর নাগালের বাইরে দিয়ে বাঁ পাশের জালে জড়ায়।

২০২৫-২৬ মৌসুমে স্পেনের হয়ে নিজের গোলসংখ্যা বাড়িয়ে ১৪তে উন্নীত করেছেন ওইয়ারসাবাল। তাতে নাম অঙ্কিত করেছেন নতুন ইতিহাসেও। এক মৌসুমে জাতীয় দলের হয়ে এত গোল এর আগে কোনো স্প্যানিশ ফুটবলার করতে পারেননি। এত দিন রেকর্ডটি ছিল ডেভিড ভিয়ার দখলে। স্পেনের সর্বশেষ স্বর্ণালী যুগ ২০০৮-০৯ মৌসুমে তিনি করেছিলেন ১৩ গোল। সেই রেকর্ড ভেঙে এখন শীর্ষে উঠে গেলেন ওইয়ারসাবাল।
এর কিছুক্ষণ পরই ফ্রান্সের দুশ্চিন্তা আরও বাড়ে। চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন দলের নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার উইলিয়াম সালিবা। সেই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই ৫৮তম মিনিটে ফ্রান্সের বিপদ আরো বাড়ান পোরো। ম্যাচের ৫৮ মিনিটে অনেকটা নিজের প্রচেষ্টায় গোলটি করেন এই ডিফেন্ডার। দানি ওলমোর সঙ্গে দ্রুত ওয়ান-টু পাস খেলে বক্সে ঢুকে পড়েন পোরো। এরপর দারুণ স্থিরতায় মাইনিয়ঁকে পরাস্ত করে বল জালে পাঠান ইংলিশ ক্লাব টটেনহ্যামের এই রাইট-ব্যাক। কিছুক্ষণ পর মনে হচ্ছিল ইয়ামাল গোল করে ম্যাচে সিলাগালা করে দিয়েছেন। কিন্তু ৬৪ মিনিটে করা স্প্যানিশ তারকার গোলটি বাতিল হয় অফসাইডের কারণে। পরে শেষদিকে দু’একটি বিচ্ছিন্ন চেষ্টা করেও ফ্রান্সকে আর ম্যাচে ফেরাতে পারেননি এমবাপ্পে, দেম্বেলেরা। বিশ্বকাপজুড়ে দাপুটে খেলেও বিদায় নেয় শেষ চার থেকেই। উল্লাসে ফেটে পড়ে স্প্যানিশ শিবির।

বিশ্বকাপের মঞ্চে এই নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে উঠল স্পেন। এর আগে একবারই তারা শিরোপা নির্ধারিত মঞ্চে জায়গা করে নিয়েছিল- ২০১০ সালে। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে সেবার অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো ফাইনালে নেদারল্যান্ডসকে ১-০ গোলে হারিয়ে হয়েছিল চ্যাম্পিয়ন। এরপর গত তিনটি বিশ্বকাপে তারা হয়েছিল চরম ব্যর্থ। ২০১৪ সালে গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ পড়ার পর ২০১৮ ও ২০২২ সালে থেমেছিল শেষ ষোলোতে। সেই বৃত্ত ভেঙে শিরোপা থেকে এখন মাত্র এক ধাপ দূরে তারা।

আর্কাইভ

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১৩১৫
১৬১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১