যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন এলিয়েন সংক্রান্ত একগুচ্ছ গোপন নথি প্রকাশ করেছে। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশের পর শুক্রবার এসব নথি প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত নথিগুলোতে গত কয়েক দশকের অজ্ঞাত উঁড়ন্ত বস্তুর (ইউএফও) বিভিন্ন ঘটনার তদন্তের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। তবে বর্তমানে ইউএফও‘র পরিবর্তে ‘শনাক্ত করা যায়নি এমন অস্বাভাবিক ঘটনা’ বলা হচ্ছে। পেন্টাগন জানিয়েছে, নতুন নতুন নথি শনাক্ত ও গোপনীয়তার ধরণ পর্যালোচনা করে ধাপে ধাপে প্রকাশ করা হবে। প্রকাশিত নথির মধ্যে এফবিআইয়ের পুরোনো কিছু ফাইলও রয়েছে। এসব নথিতে ১৯৪৭ থেকে ১৯৬৮ সালের মধ্যে পাওয়া শত শত প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা ও জনসাধারণের রিপোর্ট অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এ ছাড়া সাম্প্রতিক ঘটনাসংক্রান্ত কিছু নথিও প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে ২০২২ সালে ইরাকে ছোট আকারের অজ্ঞাত উড়ন্ত বস্তু দেখার তথ্য রয়েছে। একইভাবে ২০২৪ সালে সিরিয়ায় অজানা উৎস থেকে আসা একাধিক আলো বা ঝলকানি দেখার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ওই সময় ইরাক ও সিরিয়ায় আইএসবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে মার্কিন সেনারা অবস্থান করছিল। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও গ্রিসে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের কিছু পর্যবেক্ষণও নথিতে যুক্ত করা হয়েছে। তবে পেন্টাগন এগুলোর সত্যতা নিয়ে সতর্ক করে দিয়েছে।
তারা জানায় এসব প্রতিবেদনে ব্যবহৃত ভাষা ও বিশ্লেষণ মূলত প্রতিবেদনকারীর ব্যক্তিগত ব্যাখ্যা। এগুলোকে চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে দেখা যাবে না। নতুন প্রকাশিত নথিতে মহাকাশচারীদের কিছু পর্যবেক্ষণও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ১৯৬৯ সালের অ্যাপোলো ১২ চাঁদ অভিযানে মহাকাশচারী অ্যালান এল বিন মিশন কন্ট্রোলে জানান, তিনি মহাশূন্যে আলোর ঝলক দেখতে পাচ্ছেন, যা দ্রুত দূরে সরে যাচ্ছে। তিনি বলেন, মনে হচ্ছে কিছু বস্তু চাঁদ থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে। পরে ১৯৭২ সালের অ্যাপোলো ১৭ অভিযানে দুই মহাকাশচারীও অত্যন্ত উজ্জ্বল আলোককণা দেখার কথা জানান। তাদের একজন বলেন, মনে হচ্ছে বাইরে যেন আতশবাজি চলছে! তবে মহাকাশচারীরা ধারণা করেছিলেন, এগুলো সম্ভবত বরফের টুকরো থেকে সৃষ্ট আলোর প্রতিফলন হতে পারে।
এ খবর দিয়েছ অনলাইন আল জাজিরা। গত ফেব্রুয়ারিতে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার এক মন্তব্যের পর ভিনগ্রহের প্রাণী নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। এক পডকাস্টে তিনি বলেছিলেন, ভিনগ্রহের প্রাণী বাস্তব, তবে আমি নিজে তা দেখিনি। পরে অবশ্য তিনি স্পষ্ট করেন, প্রেসিডেন্ট থাকাকালে পৃথিবীর সঙ্গে ভিনগ্রহের কোনো যোগাযোগের প্রমাণ তিনি পাননি।
এর কিছুদিন পর ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে নির্দেশ দেন, ইউএফও, ভিনগ্রহের প্রাণ ও অস্বাভাবিক বায়ুমন্ডলের ঘটনার সরকারি নথি প্রকাশের প্রক্রিয়া শুরু করতে। শুক্রবার ট্রাম্প বলেন, এসব নথি প্রকাশের মাধ্যমে মানুষ নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিতে পারবে, আসলে কী ঘটছে।










Add Comment