চট্টগ্রামে সাত বছরের দীর্ঘ অপেক্ষা ফুরালো মোস্তাফিজুর রহমানের। চোট কাটিয়ে মাঠে ফিরেই কাটার আর স্লোয়ারে দিশাহারা করে দিলেন নিউজিল্যান্ড ব্যাটারদের। কিউইদের বিপক্ষে সিরিজ নির্ধারণী শেষ ওয়ানডেতে ৪৩ রানে ৫ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের জয়ের অন্যতম নায়ক ‘দ্য ফিজ’। এই ফাইফারের পথেই তিনি নাম লিখিয়েছেন বিশ্ব ক্রিকেটের এক অভিজাত তালিকায়। ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে বাঁহাতি পেসারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশিবার ৫ উইকেট নেয়ার রেকর্ডে এখন যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে মুস্তাফিজ। সামনে এখন শুধু অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি মিচেল স্টার্ক।
৬ বার ফাইফার নিয়ে মোস্তাফিজ পাশে বসেছেন পাকিস্তানের কিংবদন্তি ওয়াসিম আকরাম এবং নিউজিল্যান্ডের ট্রেন্ট বোল্টের। এ কীর্তি গড়তে ওয়াসিম আকরাম বোলিং করেন ৩৫১ ইনিংস। কেবল ১১৮ ইনিংসেই সর্বকালের অন্যতম সেরা এই বোলারের পাশে বসলেন মোস্তাফিজ। বোল্টের অবশ্য ইনিংস একটু কম লেগেছে (১১৪ ইনিংস)। মোস্তাফিজের সামনে এখন কেবল মিচেল স্টার্ক, যার ঝুলিতে রয়েছে ৯টি ফাইফার। তাকেও ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে ৩০ বছর বয়সী ফিজের। ২০১৯ বিশ্বকাপে ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা দুই ম্যাচে ৫ উইকেট নেন মোস্তাফিজ। প্রায় সাত বছর পর একই স্বাদ পেলেন তিনি। বাংলাদেশের হয়ে ওয়ানডেতে সবচেয়ে বেশিবার ফাইফার নেয়ার রেকর্ডটি আগে থেকেই
মোস্তাফিজের দখলে। এবার সেটিকে আরও সমৃদ্ধ করলেন তিনি। সমান ৪ বার করে ওয়ানডেতে ৫ উইকেট নেয়ার রেকর্ড রয়েছে আব্দুর রাজ্জাক ও সাকিব আল হাসানের।
মাত্র ১১ ম্যাচে দুবার ফাইফার নিয়ে এরপরই অবস্থান নাহিদ রানার। ওয়ানডের ইতিহাসে সবমিলিয়ে সর্বোচ্চ ফাইফারের রেকর্ডটি ওয়াকার ইউনিসের। ২৫৮ ইনিংসে ১৩ বার ৫ উইকেট নিয়েছেন পাকিস্তানের এ কিংবদন্তি পেসার। সিরিজ জয়ের পর মোস্তাফিজের ভূয়সী প্রশংসা করেন মেহেদী হাসান মিরাজ। যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ সময়ের টাইগার পেসারের সবচেয়ে ভরসার জায়গা তিনিই। মিরাজ বলেন, ‘মোস্তাফিজ তো গ্রেট বোলার আমাদের বাংলাদেশের জন্য এবং ওর অর্জন আমার মনে হয় কেউ ভুলতে পারবে না। কারণ, বাংলাদেশের জন্য অনেক ম্যাচ জিতিয়েছে সে আর এরকম একটা ক্রিকেটার থাকলে দলের অনেক কাজে লাগে এবং যেকোনো জরুরি প্রয়োজন হলেই মোস্তাফিজকে আমরা চিন্তা করতে পারি।’










Add Comment