কক্সবাজারের মহেশখালীতে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বিগত সরকার দেশ থেকে ২৮ লক্ষ কোটি টাকা লুণ্ঠন করে বিদেশে পাচার করেছে, যা দেশের বার্ষিক বাজেটের চার গুণেরও বেশি। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ, চোর ও লুণ্ঠনকারীদের পেটের ভেতর হাত দিয়ে এই টাকা বের করে আনা হবে। জনগণের প্রতিটি পয়সার হিসাব দিতে হবে।’
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বড় মহেশখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হামিদুর রহমান আজাদের সমর্থনে এই জনসভার আয়োজন করা হয়।
বক্তব্যের শুরুতেই ডা. শফিকুর রহমান জুলাই বিপ্লবের শহীদদের স্মরণ করে বলেন, ‘জুলাইয়ের পরিবর্তন ও বিপ্লবের কারণেই আজ আমি আপনাদের সামনে দাঁড়াতে পেরেছি। যারা জীবন দিয়ে আমাদের এই মুক্তি এনে দিয়েছে, তাদের পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আমি এখানে এসেছি। তারা রক্ত না দিলে বাংলাদেশ যে অন্ধকারের গহ্বরে তলিয়ে গিয়েছিল, সেখান থেকে বের হওয়া সহজ ছিল না।’
যুবকদের কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে আমীরে জামায়াত বলেন, ‘আমাদের যুবকরা মিছিল করে বেকার ভাতা চায়নি, তারা বলেছে—আমাদের হাতে কাজ দাও। আমরা অপমানজনক বেকার ভাতা নয়, বরং সম্মানের কাজ তুলে দিতে চাই। মহেশখালী ও কুতুবদিয়া সেই কাজের বিশাল পটেনশিয়াল জায়গা। মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে ইনশাআল্লাহ আমরা এই অঞ্চলকে সিঙ্গাপুর বা হংকংয়ের চেয়েও উন্নত মানে নিয়ে যেতে পারবো।’
দেশের মানুষের ধৈর্য ও মহানুভবতার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘বিদেশের বড় বড় দেশে কয়েক ঘণ্টার জন্য বিদ্যুৎ চলে গেলে হাজার হাজার দোকান লুট হয়, মা-বোনদের ইজ্জত লুণ্ঠন হয়। কিন্তু বাংলাদেশে ৫ই আগস্টের পর ৪ দিন কোনো সরকার ছিল না, তবুও আমাদের দেশের মানুষ ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি সামলেছে। আমাদের দেশের মানুষ ভালো, কিন্তু যারা নেতৃত্ব দিয়েছে তারা পচা। নেতৃত্ব যদি দুর্নীতিবাজ ও ব্যাংক ডাকাত হয়, তবে যুবকদের প্রত্যাশার বাংলাদেশ গড়া যাবে না। মাথা ঠিক তো সব ঠিক, তাই আমরা এখন পচা নেতৃত্ব সংস্কার করতে এসেছি।’
আসন্ন নির্বাচনে জনগণের সমর্থন চেয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমি সিলেটের মানুষ হিসেবে আপনাদের কাছে খালি হাতে ফিরে যেতে চাই না। আমি নিজের জন্য নয়, দেশের জন্য এবং নিরাপদ বাংলাদেশের জন্য আপনাদের কাছে ভোট চাইতে এসেছি। ভোট মানে কেবল একটি সিল নয়, এটি আজাদি আর গোলামির লড়াই। যারা এই পরিবর্তনের বিপক্ষে অবস্থান নেবে, জাতি ধরে নেবে তারা আবার ফ্যাসিবাদের পরিবারতান্ত্রিক স্বৈরতন্ত্র চালু করতে চায়।’
উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, ‘এই বাংলাদেশ আর ধীরগতিতে চলবে না, এখন আমাদের ‘‘জাম্প’’ করতে হবে। সৎ ও যোগ্য নেতৃত্বের মাধ্যমে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হবে। কোনো আধিপত্যবাদীর কাছে এ দেশ আর বন্ধক রাখা হবে না এবং কারো চোখ রাঙানি বরদাস্ত করা হবে না।’











Add Comment