Templates by BIGtheme NET
ব্রেকিং নিউজ ❯
Home / সুন্দরবন সংবাদ / ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের প্রতিবাদ :: রামপাল এমডির অপসারণ চান সুলতানা কামাল

ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের প্রতিবাদ :: রামপাল এমডির অপসারণ চান সুলতানা কামাল

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কম্পানি লিমিটেডের (বিআইপিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ভারতীয় নাগরিক উজ্জ্বলকান্তি ভট্টাচার্যের ধৃষ্টতাপূর্ণ মিথ্যাচার ও বাংলাদেশের নাগরিক সমাজ সম্পর্কে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের প্রতিবাদে তাঁর অপসারণ দাবি করেছেন সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক সুলতানা কামাল। তিনি বলেন, সরকার বলছে বিদ্যুৎকেন্দ্রে ‘আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তি’ ব্যবহার করা হবে। অথচ এমডি বলেছেন, এ ধরনের প্রযুক্তি পৃথিবীতে নেই। তাই সরকারের বক্তব্য যে ভিত্তিহীন, তা এমডির কথায়ও প্রমাণিত হলো।

গতকাল শনিবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে সুলতানা কামাল এই দাবি ও মন্তব্য করেন। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের সর্বশেষ অবস্থা ও সরকারি অবস্থান বিষয়ে জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

save-the-sundorbon

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সুলতানা কামাল বলেন, সরকারের বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীসহ একাধিক মন্ত্রী ও সরকারদলীয় নেতারা রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে আন্দোলনকারী নাগরিক সমাজ সম্পর্কে বলে আসছেন, কোনো সঠিক বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্য-প্রমাণ ও যুক্তি ছাড়াই তারা বিরোধিতা ও আন্দোলন করছে। তাঁরা এ ক্ষেত্রে তাঁদের যুক্তি হিসেবে সব সময়ই ‘আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তি’ ব্যবহারের কথা বলেছেন। তবে তাঁদের বক্তব্য যে ভিত্তিহীন সেটি আজ সরকার ও দেশবাসী জানতে পারল রামপাল প্রকল্পের এমডির কথায়। কারণ সম্প্রতি রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান বিআইএফপিসিএলের এমডি বলেছেন, ‘আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তি বলে পৃথিবীতে কোনো প্রযুক্তি নেই। রামপালে আমরা সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তিতেই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছি।’ পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশের জনগণকে কটাক্ষ করে অগ্রহণযোগ্য মন্তব্য করেছেন বলে পত্রিকান্তরে প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর এই বক্তব্য এক কথায় ঔদ্ধত্যপূর্ণ।

সুলতানা কামাল বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে রামপাল প্রকল্প বিষয়ে অনেক ভুল তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে অবিরত প্রচারের পর তার মধ্যে একটি মৌলিক বিষয়ে তাঁদের মিথ্যাচারকে স্বীকার করে নেওয়া হলো। অন্যদিকে তাঁর চরম ধৃষ্টতাপূর্ণ মিথ্যাচার, ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ ও বক্তব্য এ দেশের সামাজিক আন্দোলন, বিজ্ঞজন এবং জন-আকাঙ্ক্ষার প্রতি অসম্মানজনক। এ জন্য ইতিমধ্যে আমরা তাঁর অপসারণ দাবি করেছি এবং আজও তার পুনরাবৃত্তি করছি।’ তিনি বলেন, ‘আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীসহ সবাইকে আবারও জানাতে চাই, সুন্দরবন বিশেষ করে রামপাল নিয়ে আমরা কখনোই কোনো অযৌক্তিক বক্তব্য দিইনি। যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ ও বিজ্ঞানভিত্তিক বিশ্লেষণের মাধ্যমেই আমরা রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিরোধিতা করছি।’ তিনি সুন্দরবনবিরোধী সব সরকারি অপপ্রচার বন্ধ করে, জনদাবি মেনে নিয়ে সুন্দরবন রক্ষায় অবিলম্বে প্রকল্পটি বাতিলের দাবি জানান।

উল্লেখ্য, গত ২৯ অক্টোবর কালের কণ্ঠে ‘সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তিতেই নির্মাণ’ শীর্ষক শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে বিআইএফপিসিএলের এমডি উজ্জ্বলকান্তি ভট্টাচার্য রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রযুক্তি ও রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রবিরোধী আন্দোলন সম্পর্কে এসব মন্তব্য করেন।

সংবাদ সম্মেলনে সমাজকর্মী খুশী কবির বলেন, উন্নয়ন কার স্বার্থে এটিকে বিবেচনায় নিতে হবে। যদি জনগণের স্বার্থেই উন্নয়ন হয়, তবে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র অবশ্যই সরিয়ে নিতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-তত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক বদরুল ইমাম বলেন, ‘রামপাল প্রকল্পের এমডির কথা সঠিক নয়। এতে তাঁর অজ্ঞতাই প্রকাশ পেয়েছে। কারণ জাপান, চীনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কয়েক শ আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তি চালু রয়েছে। তবে রামপাল প্রকল্পের জন্য আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তিও যে গ্রহণযোগ্য নয়, তা আমরা শুরু থেকেই বলে এসেছি।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এম এম আকাশ বলেন, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের পক্ষে যাঁরা সরকারকে বোঝাচ্ছেন তাঁরা কোনোক্রমেই বাংলাদেশ সরকার বা দেশের বন্ধু হতে পারেন না।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক (টিআইবি) ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, জাতিসংঘ ও তার আন্তঃরাষ্ট্রীয় সংগঠন যে তথ্য দেয় তা অবশ্যই বিজ্ঞানভিত্তিক বিবেচনায় নিশ্চিত হয়েই দেওয়া হয়। যথেষ্ট বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্যের মাধ্যমেই তাদের মতামত ও সিদ্ধান্ত তুলে ধরেছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরো বক্তব্য দেন সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য এবং সেভ দ্যা সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম, শরীফ জামিল ও রুহিন হোসেন প্রিন্স। সঞ্চালক ছিলেন  বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক ও সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্যসচিব ডা. মো. আব্দুল মতিন।

About admin

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful